নিজস্ব প্রতিনিধি, সাব্রুম:
প্রধানমন্ত্রী জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত একটি ওভারহেড জলাধারের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমে। ঘটনাটি ঘটেছে সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকগড় টিলা এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব্রুম ডিডব্লিউএস দপ্তরের উদ্যোগে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এক লক্ষ গ্যালন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ওভারহেড জলাধার নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ, প্রকল্পের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণ বিধি না মেনেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলেই অল্প বৃষ্টিতেই বাউন্ডারি ওয়াল ধসে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
প্রতিবেশী বাসিন্দা মানিক দাস জানান, নির্মাণের সময় থেকেই তিনি বারবার ঠিকাদারি সংস্থার প্রতিনিধিদের মজবুতভাবে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত গভীর ভিত্তি ও প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার না করেই কাজ শেষ করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রাচীরটি ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ধসে পড়া প্রাচীরের কারণে তাঁর বাড়ি ভূমিধসের ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালীনও নিম্নমানের কাজ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল এবং বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। তা সত্ত্বেও যথাযথ তদারকি না হওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
অভিযোগের তীর উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পঙ্কজ মল্লিকের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা ডিডব্লিউএস দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যদি ছয় মাসের মধ্যেই বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে পড়ে, তবে নির্মাণের গুণগত মান এবং তদারকির দায় কে নেবে? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
