নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর, duran: গোমতী জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে। পরিদর্শনে তিনি ট্রমা কেয়ার সেন্টার, নবনির্মিত সিসিইউ, সিটি স্ক্যান ও রেডিওলজি বিভাগ, ইউএসজি কক্ষ, আইপিএইচএল ল্যাব এবং ব্লাড ব্যাংক ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্সিং অফিসার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরিষেবার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য সচিব জানান, গোমতী জেলা হাসপাতাল শুধু উদয়পুর নয়, বিশালগড় ও দক্ষিণ ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা ও অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের উদ্যোগে হাসপাতাল চত্বরে আরও একটি আধুনিক ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এদিন তিনি পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্মাণস্থলও পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য জেলা হাসপাতালগুলিকে আরও শক্তিশালী করে অপ্রয়োজনীয় রেফার কমিয়ে আনা, যাতে রোগীরা স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসা পান। ইউএসজি পরিষেবায় দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দ্রুত দুই শিফটে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি চালুর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিকল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দ্রুত সচল করার কাজও চলছে বলে জানান।

কিরণ গিত্তে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ত্রিপুরার জন্য বরাদ্দ তিনটি অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিনের একটি গোমতী জেলা হাসপাতালে বসানো হবে। এছাড়া ৬ শয্যাবিশিষ্ট কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু হবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি ল্যাব পরীক্ষা হলেও বায়োপসিসহ কয়েকটি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের সুবিধার্থে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের আদলে গোমতী জেলা হাসপাতালেও সান্ধ্যকালীন ওপিডি চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. দেবশ্রী দেববর্মা, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. কমল রিয়াং, মেডিক্যাল সুপার ডা. কাজল কুমার দাস, পূর্ত দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপস মারাকসহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।
