নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, দুরন্ত টিভি :
ন্যাশনাল ‘ল’ ইউনিভার্সিটি (এনএলইউ) ত্রিপুরার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্যের শিক্ষামহলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নচিকেতা মিতালের পদত্যাগের পরও সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁর নাম বহাল থাকা নিয়ে সম্প্রতি ‘দুরন্ত টিভি’-তে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর সেই খবর সম্প্রচারিত হতেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার তড়িঘড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ড. মিতালের নাম ও প্রোফাইল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, চলতি বছরের মে মাসেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ড. নচিকেতা মিতাল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে, তাঁর পদত্যাগের পরও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল পোর্টালে তাঁকে ‘রেজিস্ট্রার’ হিসেবেই দেখানো হচ্ছিল। গণমাধ্যমে এই চরম গাফিলতির খবর আসতেই শেষমেশ ওয়েবসাইট সংশোধনে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ওয়েবসাইট আপডেটে কেন এত বিলম্ব হলো, পদত্যাগ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বর্তমান পরিস্থিতি কী— সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে।
এনএলইউ ত্রিপুরার অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সার্বিক পরিচালনা নিয়ে একাধিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, উপাচার্য ড. যোগেশ প্রতাপ সিংহ এবং প্রাক্তন রেজিস্ট্রার ড. নচিকেতা মিতালের পারস্পরিক কর্মসম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পদত্যাগী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অতীতে নারীঘটিত নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ছাত্রী ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণ এবং যৌন হেনস্থার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এই কড়া চিঠির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন কী সাফাই দেয়, সেটাই দেখার। একই সাথে, পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্য সরকার পরবর্তী সময়ে কোনো বড়সড় প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজ্যের শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের।
