এসটিজিটি মামলার শুনানিতে গরহাজির সরকারি আইনজীবী: আদালতকে ‘হাসির খোরাক’ বানানোর অভিযোগ TRBT-র বিরুদ্ধে
দুরন্ত টিভি প্রতিনিধি, আগরতলা:
রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত অব্যবস্থা ও উদাসীনতা এবার প্রকাশ্য আদালতে এসে ধাক্কা খেল। ২০২২ সালের এসটিজিটি (STGT) পরীক্ষার ফলাফল দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে রেখে, সেই একই পদের জন্য ২০২৬ সালে পুনরায় নতুন পরীক্ষা নেওয়ার মতো নজিরবিহীন ও অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিআরবিটি (TRBT)। শিক্ষা বোর্ডের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঞ্চিত ও প্রতারিত পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু গত ২২ জুনের বহু প্রতীক্ষিত শুনানিতে যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননাকর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানির দিন বঞ্চিত পরীক্ষার্থীদের পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা যথাসময়ে এজলাসে উপস্থিত থাকলেও, আশ্চর্যজনকভাবে সরকার পক্ষের কোনো আইনজীবীর দেখাই মেলেনি। শুধু সরকারি আইনজীবীই নন, আদালতে গরহাজির ছিলেন খোদ টিআরবিটি-র কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকও। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এভাবে শুনানি এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘিরে আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, উচ্চ আদালতের নির্দেশকে অমান্য করার এই দুঃসাহস সরকারি আইনজীবীরা বা টিআরবিটি কর্তৃপক্ষ কোথা থেকে পায়? তবে কি সরকারি সংস্থাগুলো বিচার ব্যবস্থাকেও এখন নিজেদের মর্জিমতো পরিচালনা করতে চাইছে?

মূলত, দীর্ঘ চার বছর ধরে ফল প্রকাশ না করা এবং আইন বহির্ভূতভাবে নতুন করে ২০২৬ সালে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করার বিষয়ে টিআরবিটি-র পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট হলফনামা জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই ২২ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছিল উচ্চ আদালত। কিন্তু কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো যুক্তি বা আইনি প্রমাণ জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে, প্রকারান্তরে আদালত কক্ষ থেকেই গা ঢাকা দিল বিবাদী পক্ষ। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার অনৈতিকভাবে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং এখন আদালতের সামনে এটি যে বৈধ, তার উপযুক্ত আইনি প্রমাণ খাড়া করার কোনো মুখ তাদের নেই।
আদালতের সাধারণ পরিবেশ ও গাম্ভীর্যকে নষ্ট করে সরকারি আইনজীবী এবং বিশেষ করে টিআরবিটি পুরো বিষয়টিকে একটি ‘হাসির খোরাকে’ পরিণত করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরাও। এই চরম উদাসীনতার কারণে আদালত আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতেও টিআরবিটি এই লুকোচুরি খেলা বজায় রাখে, নাকি উচ্চ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাদের। দীর্ঘ চার বছর ধরে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঝুলে থাকা হাজারো যুবকের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে চেয়ে রয়েছে।

চার বছরেও মেলেনি ২০২২-এর ফল, নতুন পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে TRBT, চরম ক্ষোভে বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা
