আয়ুব সরকার, চিফ এডিটর, দুরন্ত টিভি: সোনামুড়ার জগৎদাস পাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে এক ভাঙাচোরা স্কুলঘর—
যেন অবহেলার ইতিহাস লিখে রাখা এক জীবন্ত দলিল।
মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ,
তবু সেই খোলা আকাশের নিচেই শিশুরা আঁকে আগামীর স্বপ্ন।
প্রতিদিন সূর্য ওঠে সোনামুড়ার জগৎদাস পাড়ায়,
কিন্তু এই স্কুলঘর আজও নীরবে প্রশ্ন ছুঁড়ে যায়।
ভাঙা টিন, ছিন্ন ছাদ, পলেস্তারা খসে পড়া দেয়াল—
এখানেই ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে একদল নিষ্পাপ বালক-বালিকা।
মাথার উপর আকাশ, তবু নেই নিরাপদ আশ্রয়,
বৃষ্টি নামলেই ভিজে যায় খাতা, বই, আর ছোট্ট সব প্রত্যয়।
যে শ্রেণিকক্ষে জ্ঞানের আলো জ্বলার কথা,
সেখানে ঝরে পড়ে অবহেলা, জমে দীর্ঘশ্বাসের ব্যথা।
চক হাতে শিক্ষক দাঁড়ান, চোখে অসহায় নীরবতা,
সরকারি প্রতিশ্রুতির ভিড়ে হারিয়ে যায় বাস্তবতার বারতা।
প্রাসাদসম উন্নয়নের গল্প চারদিকে যতই শোনা যায়,
এই স্কুলঘর যেন এখনও বঞ্চনার দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়।
সুকান্তর প্রতিবাদী কলম আজও যেন গর্জে বলে—
“শৈশব বন্দী কেন ভাঙা ছাদের তলে?”
এই শিশুরা চায় না করুণা, চায় না দয়ার ভাষণ,
চায় শুধু নিরাপদ ক্লাসরুম, শিক্ষার অধিকার, একটু সুরক্ষার স্পর্শন।
খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ওরা গোনে ভবিষ্যতের দিন,
কিন্তু প্রশ্ন জাগে—এভাবেই কি গড়বে দেশের আগামী প্রজন্মের ঋণ?
শোনো হে সমাজ, শোনো হে দায়িত্বশীল প্রশাসন,
আকাশ দেখিয়ে নয়—ওদের দাও মাথার উপর শক্ত ছাদ, স্বপ্ন দেখার কারণ।
প্রাসাদের স্বপ্ন দেখানো হয়, উন্নয়নের ঢাক বাজে,
কিন্তু এই ভাঙা বিদ্যালয় নীরবে বলে দেয়—
সব উন্নয়ন এখনো পৌঁছায়নি শেষ বেঞ্চের ওই শিশুটির কাছে।
ওরা দয়া চায় না, করুণা চায় না—
চায় শুধু মাথার উপর একটি ছাদ,
নিরাপদ একটি শ্রেণিকক্ষ,
আর মানুষ হয়ে ওঠার ন্যূনতম অধিকার।
এই ছবি শুধু একটি জরাজীর্ণ স্কুলের নয়—
এ ছবি এক প্রশ্ন, এক প্রতিবাদ, এক বিবেকের দরজায় কড়া নাড়া।
