নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, দুরন্ত টিভি: ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরার (NLU) অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্তরে চরম অচলাবস্থা ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ফের তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যৌন কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এবং প্রায় দুই মাস আগে পদত্যাগ করা এক কর্মকর্তার নাম এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সরকারি পোর্টালে সসম্মানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধ্যাপক’ এবং ‘ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার’ পদ থেকে ড. নচিকেতা মিত্তল আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন। সম্প্রতি তাঁর পদত্যাগের একটি ইমেল বার্তা প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। গত ৩ মে, ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো ওই ইমেলে মিত্তল স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন যে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে তিনি অধ্যাপক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার ডিরেক্টর পদসহ সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। ৪ মে, ২০২৬ থেকে তাঁর এই পদত্যাগ কার্যকর করার আর্জিও জানানো হয়, যার প্রেক্ষিতে গত ১৪ মে উপাচার্যের পক্ষ থেকে ইমেলের লিখিত উত্তরও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এর পরও কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি মাস। প্রশ্ন উঠছে, অফিশিয়ালি পদত্যাগ করার পরও কেন সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তাঁর নাম সরানো হলো না? কার প্রচ্ছন্ন মদতে এবং কী উদ্দেশ্যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে এখনও দায়িত্বে বহাল দেখানো হচ্ছে?

ভুবনেশ্বর টু আগরতলা: ‘যুগলবন্দি’ ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য
এই রহস্যজনক প্রশাসনিক গাফিলতির সমান্তরালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. যোগেশ এবং নচিকেতা মিত্তলের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এর আগে ওড়িশার এনএলইউ ভুবনেশ্বরে দুজনে একসাথে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় ড. যোগেশ ছিলেন সেখানকার রেজিস্ট্রার এবং মিত্তল ছিলেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। অভিযোগ, ভুবনেশ্বরে থাকাকালীনই নচিকেতা মিত্তলের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে ওড়িশার শিক্ষা মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপাচার্য যোগেশ তাঁর পুরনো সহকর্মীকে আড়াল করতে এবং পুনর্বাসন দিতে এনএলইউ ত্রিপুরায় নিয়ে আসেন এবং বড় দায়িত্ব সঁপে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার পরও একজন দাগী ও বিতর্কিত ব্যক্তির নাম সরকারি পোর্টালে রেখে দেওয়াটা নেহাতই প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি এর পেছনে উপাচার্যের কোনো প্রচ্ছন্ন স্বার্থ বা গভীর ‘ব্যাকরণ’ রয়েছে— তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগরতলার আমলা ও শিক্ষা মহলে কানাঘুষো ও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
