আবারও সেই একই বিতর্ক! ভুল, নাকি পরিকল্পিত অপকর্ম?

বিশেষ প্রতিনিধি ll দুরন্ত টিভি ওয়েব, ১ জুলাই :

নিয়মিত চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের পরেও নিজের নামের পেছনে IAS তকমা ব্যবহারকারী গুণধর আমলা এখনো পর্যন্ত পরপর আট বার পুনর্নিযুক্তি পেয়ে চলেছেন কোন যাদুমন্ত্রে?! জনস্বার্থে? না কি ব্যক্তিস্বার্থে? নাকি অন্য কোন বিশেষ স্বার্থে?

আবার সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি !! ভুল ?!! না কি জেনেশুনেই ইচ্ছাকৃত অপকর্ম?? ভুল একবার হয়। পুণ: পুণ: হতে থাকলে তা কখনোই ভুল হতে পারে না। বরং, তখন সেটি হয়ে ওঠে এক বা একাধিকের কায়েমি স্বার্থ রক্ষার বদ উদ্দেশ্য প্রণোদিত কুকর্ম।

দুরন্ত টিভিতে আগেই একবার তথ্যপ্রমাণ সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল রাজ্যের এক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আমলা অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যকে রেট্রোস্পেকটিভ পুনর্নিয়োগের আদেশমূলে ৬ষ্ঠ বারের মতো রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব হিসাবে নিযুক্তি দেওয়ার, যখন তাঁকে ১৫ই অক্টোবর, ২০২৫ ইং তারিখ থেকে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়েছিল সেই তারিখের ৮ দিন পরে, অর্থাৎ, ২২শে অক্টোবর, ২০২৫ ইং তারিখে জারি হওয়া এক আদেশমূলে, যা কি না সরাসরি আইন বিরুদ্ধ এবং গোটা ভু-ভারতে এমন রেট্রোস্পেকটিভ নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ঘটনা আর দ্বিতীয়টি কোথাও আছে কি না, তা যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রাখে।

তাছাড়া, ঐ একই আদেশে একবার বলা হয়েছিল যে আদেশটি নির্দিষ্ট ৬ মাস সময়সীমার জন্য কার্যকর থাকবে, আবার একই সঙ্গে এটিও বলা হয়েছিল যে পরবর্তী আদেশ জারি হওয়া সাপেক্ষে, অর্থাৎ অনির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য পুনর্নিয়োগের আদেশটি কার্যকর থাকবে! অর্থাৎ, ঐ আদেশটিতে একই সঙ্গে এমন দুটি সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী কথার উল্লেখ ছিল, যা কি না গোটা আদেশটিকেই আইনের চোখে একটি বিভ্রান্তি মূলক (Ambiguous) আদেশে পরিণত করেছিল, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহল থকে শুরু করে রাজ্যের বৃহদাংশের জনমনে একদিকে যেমন হাসির খোঁড়াক জুগিয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর আদেশের পেছনে কাদের কোন ধরনের স্বার্থ কাজ করেছে, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি, যেহেতু কোন পুনর্নিয়োগই জিএ (পি এণ্ড টি), অর্থ দপ্তর, ক্যাবিনেট এণ্ড কনফিডেনসিয়াল দপ্তর এবং সর্বোপরি রাজ্যের মুখ্যসচিবের সম্মতি ছাড়া হয় না, তাই এই ধরনের বিচিত্র এবং আইন বিরুদ্ধ, পরস্পর বিরোধী বক্তব্য সম্পন্ন রেট্রোস্পেকটিভ পুনর্নিয়োগের আদেশকে ঘিরে মুখ্য সচিব সহ উপরোক্ত দপ্তরগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আধিকারিকদের ভুমিকা কিংবা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ যোগসাজশ সম্পর্কেও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল।

এখন, ঐ একই অবসরপ্রাপ্ত গুণধর আমলা অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যের নামে জারি হওয়া ৭ম বারের মতো পুনর্নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি আদেশটিতেও সেই একই ধরনের কুকীর্তি আবারও দেখা গেলো। এবং, এবারে কুকীর্তির মাত্রা আগের বারের চাইতেও বেশি। ইতিমধ্যেই ঐ আধিকারিকের ৭ম বারের মতো পুনর্নিযুক্তির সেই অবৈধ আদেশটি দুরন্ত টিভির হাতে এসে পৌঁছেছে। তাতে, খুব পরিস্কার দেখা যাচ্ছে যে এটিও একটি রেট্রোস্পেকটিভ আদেশ, যাতে ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং তারিখে জারি হওয়া আদেশে বলা হয়েছে যে ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং তারিখ থেকে, অর্থাৎ, আদেশ জারির ১৩ দিন আগে থেকেই না কি অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব হিসাবে নিযুক্ত হয়ে গেছেন!! একে ভুতুড়ে কাণ্ড না বলে আর কি ভালো শব্দ ব্যবহার করা যায়?! আবার, এই আদেশটিতেও একাধারে লেখা হয়েছে এটি ৬ মাস সময়সীমার জন্য কার্যকর থাকবে, আবার বলা হয়েছে পরবর্তী আদেশ জারি না পর্যন্ত, অর্থাৎ, অনির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আদেশটি বলবৎ থাকবে!! অদ্ভুতই বটে!!

তবে, বারংবার এই একই ধরনের কুকীর্তি ঘটিয়ে যাওয়ার ফলে এর পেছনে যে খোদ রাজ্যের মুখ্যসচিব সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজশ এবং সরাসরি মদত আছে, প্রসাশনিক মহল থেকে শুরু করে জনমনে সেই সন্দেহ ক্রমশঃ দৃঢ় ও বদ্ধমূল বিশ্বাসে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মহোদয় যখন বারবার সমস্ত রকম দূর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-নীতি নিয়ে চলার কথা বলছেন, তখন প্রশাসনের গুটিকয় শীর্ষ আমলার নানা ধরনের নীতিহীন কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক তথ্যভিত্তিক খবর প্রমাণ সহ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন যে সরকার এবং বিশেষ করে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তক্রমে উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ হচ্ছেন, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

একবার নয়, বারবার একই ধরনের সরকারি আদেশ। রেট্রোস্পেকটিভ কার্যকারিতা ও পরস্পরবিরোধী শর্ত নিয়ে ফের উঠছে প্রশ্ন। সরকারি নথির ভিত্তিতে বিষয়টি তুলে ধরছে DURANTA TV

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!