প্রতিনিধি, অনুপম পাল | কৈলাসহর | দুরন্ত টিভি
ঊনকোটি জেলার বহুল আলোচিত এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শঙ্কর দাস ওরফে অভি (৪৩)-কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর দাসকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা বিচারক পি. কুমার।
আদালত অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কৈলাসহরের চিরাকুটি এলাকার এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে স্থানীয় এক পরিবারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। ওই পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন বাড়ির বাইরে কুকুরকে খাবার দিতে গেলে বরযাত্রীর গাড়িচালক শঙ্কর দাস তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ, গাড়ির ভেতরেই ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তরুণী ও তার সন্তান একটি হোমে রয়েছেন।
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ভুক্তভোগীর এক আত্মীয় কৈলাসহর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজু হয়। তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে পান মৌসুমী দেববর্মা এবং পরে শিবানী দেববর্মা। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ঘটনায় ব্যবহৃত মহেন্দ্রা মারাজো গাড়িটি অভিযুক্ত শঙ্কর দাসের মালিকানাধীন ছিল। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জন্ম নেওয়া শিশুটির পিতা হিসেবে অভিযুক্ত শঙ্কর দাসের নাম উঠে আসে, যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়।
মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। সরকার পক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কঙ্কন দেবত্রাতা।
আদালতের এই রায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রত্যাশী ভুক্তভোগীর পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
