“অর্ডার পরে, চাকরি আগে! সাতবার পুনর্নিয়োগের পর এবার রেট্রোস্পেকটিভ বিতর্কে তোলপাড় প্রশাসন।”

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুরন্ত টিভি:

রাম জন্মানোর আগেই রামায়ণ রচনা!

অর্ডার বেরোনোর আগেই পুনর্নিয়োগ, “আইনের ফাঁক, প্রশাসনের নীরবতা, আর পুনর্নিয়োগের রাজনীতি।”

আইনের ফাঁক ব্যবহার করে একের পর এক পুনঃ নিয়োগ, সাথে দুর্নীতির অভিযোগ। কার স্বার্থে এই নিয়োগ? আইনের ফাঁক টা কোথায়? কেন একের পর এক পুনঃ নিয়োগ?
আসছি বিস্তারিত তথ্যে

রাজ্যে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের একের পর এক পুনর্নিয়োগ নিয়ে যখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় পরপর সাতবার পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। সরকারি নথিতেই এমন এক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

জিএ (পি এন্ড টি) দপ্তরের ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে জারি হওয়া নোটিফিকেশন নম্বর F.35(27)-GA(P&T)/95(P-I) অনুযায়ী অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যকে বিশেষ সচিব পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিফিকেশনেই উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁর পুনর্নিয়োগ কার্যকর হবে ১৫ অক্টোবর, অর্থাৎ সরকারি আদেশ জারির আট দিন আগের তারিখ থেকে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি আদেশ জারির আগেই কীভাবে কোনও ব্যক্তি পুনর্নিয়োজিত হতে পারেন? সমালোচকদের একাংশের কটাক্ষ, “এ যেন ভগবান রাম জন্মানোর আগেই রামায়ণ লেখা।”

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সার্ভিস রুলস বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগ সাধারণভাবে Retrospective বা অতীতের তারিখ থেকে কার্যকর করা যায় না, যদি না এ বিষয়ে কোনও উপযুক্ত আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ বা আদেশ থাকে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কোনও আদালতের নির্দেশের তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই পুনর্নিয়োগের আইনগত ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস (CCS) রুলস অনুযায়ী সাসপেনশন, বিভাগীয় তদন্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত ও পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলির প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত হয়ে যায়।

অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট (PCA)-এর আওতায় তদন্ত বা বিচার হতে পারে। তবে CCS রুলস অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তি বা সাসপেনশনের মতো ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর করা যায় না বলেই প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি। ফলে জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএএস বা টিসিএস কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবার মতো ক্ষেত্র নয়, যেখানে নির্দিষ্ট দক্ষতার কারণে একই ব্যক্তিকে বারবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতেই হবে। রাজ্যে একাধিক কর্মরত ও সিনিয়র আইএএস আধিকারিক থাকা সত্ত্বেও কেন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের মতো অনেক পরিষেবা বিধি কার্যকর থাকে না। সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস (CCS) রুলস অনুযায়ী কর্মরত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলেও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস (DP) পরিচালনার ক্ষেত্রেও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদিও দুর্নীতির অভিযোগে প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট (PCA)-এর আওতায় তদন্ত হতে পারে, তবে CCS রুলস অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অনেকগুলোই প্রযোজ্য হয় না। সমালোচকদের দাবি, এই প্রশাসনিক ও আইনি ফাঁককেই কাজে লাগিয়ে একের পর এক পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কোনও অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জিএ (পি এন্ড টি) দপ্তর, অর্থ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, ক্যাবিনেট ও কনফিডেনসিয়াল দপ্তর, মুখ্যসচিব এবং শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ফলে এই ধরনের রেট্রোস্পেকটিভ পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল একটি দপ্তর নয়, বরং একাধিক প্রশাসনিক স্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি এই পুনর্নিয়োগে কোনও আদালতের নির্দেশ না থেকে থাকে, তাহলে জিএ (পি এন্ড টি) দপ্তর, অর্থ দপ্তর, ক্যাবিনেট ও কনফিডেনসিয়াল দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একাধিক স্তরের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের আদেশ জারি হওয়ার সুযোগ নেই বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

তাদের মতে, সরকারের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা যে, এই ধরনের রেট্রোস্পেকটিভ পুনর্নিয়োগের পেছনে কোনও প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত ছিল কি না। যদি কোনও ধরনের যোগসাজশ বা নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্তের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আদালতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক স্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জিএ (পি এন্ড টি) দপ্তর, অর্থ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, ক্যাবিনেট ও কনফিডেনসিয়াল বিভাগ, মুখ্যসচিব এবং শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
সেই কারণে প্রশ্ন উঠছে, যদি Retrospective পুনর্নিয়োগ আইনগতভাবে বিতর্কিত হয়, তাহলে এতগুলি প্রশাসনিক স্তর অতিক্রম করে সেই আদেশ কীভাবে অনুমোদিত হল?

বিষেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি এই পুনর্নিয়োগে কোন আদালতের নির্দেশ না থেকে থাকে, তাহলে জিএ (পি এণ্ড টি) দপ্তর, অর্থ দপ্তর, ক্যাবিনেট ও কনফিডেনসিয়াল দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভুমিকা, এমন কি খোদ রাজ্যের মুখ্যসচিবের ভুমিকা কি ছিল, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

টিসিএস বা আইএএস প্রফেশন ডক্টর এর মত কোন স্পেশালিস্ট প্রফেশন নয়। এমনটা নয় যে কতিপয় পুনঃ নিযুক্ত বা একই জায়গায় দীর্ঘ বছর থাকা আইএএস বা টিসিএস অফিসার দেরকেই বারে বারে নিযুক্ত করতে হবে যেমনটা অনেক সময় কার্ডিওলজিস্ট স্পেশালিস্টের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। রাজ্যে এত সিনিয়র আইএএস থাকতে কেন বারে বারে অবসর এ যাওয়াদের পুনঃনিযুক্ত করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হচ্ছে?
এদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার পেছনে মূল কারন হচ্ছে দুর্নীতিতে সায় দেওয়া। কারন তাদের উপর CCS রুলস প্রযোজ্য হবে না, আর CCS রুলস প্রযোজ্য না হলে সাসপেন্ড হবে না। সেই রুলস অনুযায়ী রিটায়ার্ড পার্সনের উপর ডিপিও হবে না। বড়জোড় PCA নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সেইজন্য দুর্নীতি করতে তাদের ভয় অনেকটা কম। কারন তাদের উপর PCA প্রযোজ্য হলেও সার্ভিস রুলস এর কোন নিয়ম লাগু হবে না। সেই আইনের ফাঁকেই একের পর এক পুনঃনিযুক্তি দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে।

এখন দেখার, সরকারের নজরে আনা এই সমস্ত অভিযোগ, নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন কোনও তদন্ত বা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় কি না

প্রথম পর্ব..

চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বের জন্য… ধারাবাহিক পর্বে থাকছে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য। এক এক পর্বে আসবে B.K. Sahu, Atanu Deoyanji, Abhishek Chandra, Nepal Babu, Shantanu, JK & AK Story, China Drone Issue, Belonia to Jirania via Khayerpur ADC Land issue, Dhaleshwar Falt, Pune Farm House, Flight Double Bill, Four Month no work Salary, and many More….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!