সুমন মুখার্জি | নিজস্ব প্রতিনিধি। ২৫ মে, ২০২৬ | ব্যাঙ্গালোর:
১৮ বছর বয়সেই জীবনের সব আলো নিভে গেল। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের ‘অদৃশ্য চাপ’ আর নিতে পারলেন না কর্নাটকের কলাবুর্গির মেধাবী ছাত্রী ভাগ্যশ্রী পাটিল। বোর্ডের পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পাওয়া এই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কাঠামো এখন একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
গত ২ মে NEET পরীক্ষা দিয়েছিলেন ভাগ্যশ্রী। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তারপর তৈরি হওয়া তীব্র অনিশ্চয়তার জেরে তিনি যে চরম মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, তা আজ স্পষ্ট। ভাগ্যশ্রীর বাবা রাজশেখর পাটিল যখন বলেন, “দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এই সিস্টেমের অদৃশ্য চাপের দরুণ অসুস্থ হয়ে পড়ছে,” তখন তা কেবল একটি শোকস্তব্ধ পিতার আর্তনাদ নয়, বরং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নগ্ন বাস্তবতার প্রতিফলন।
কীসের বিনিময়ে এই মেধাবীদের প্রাণ যাচ্ছে? বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং শেষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারি—এই পুরো প্রক্রিয়াই কি তবে প্রতারণা? ভাগ্যশ্রীর আগে রাজস্থানে এক মেধাবীর মৃত্যুসহ অন্তত পাঁচজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। তবুও প্রশাসনের টনক নড়ছে না।

বোর্ডে ৯২ শতাংশ নম্বর পাওয়া একজন ছাত্রীর আত্মহনন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি একটি ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে কেন্দ্রীয় সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনা করছে, তাদের কি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই? প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল অপরাধ নয়, এটি হাজার হাজার তরুণের ভবিষ্যৎ চুরমার করে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
পুলিশ তদন্ত করছে, সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে হয়তো দায় এড়ানো সহজ হবে, কিন্তু ভাগ্যশ্রীর মৃত্যুতে যে প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে, তার উত্তর কি প্রশাসন দিতে পারবে? কতগুলো প্রাণ ঝরলে তবেই কি এই ‘সিস্টেম’ শোধরাবে? মেধাবীদের মৃত্যুর দায়ভার রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পর্ষদ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
