নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিরবাজার:
দক্ষিণ ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা শান্তিরবাজার। সীমান্তবর্তী ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহকুমা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থায়ী মহকুমা শাসকহীন অবস্থায় চলছে। ফলে প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি, সরকারি পরিষেবায় বিলম্ব এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিনদিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডিসি নির্বাচনের সময় থেকেই শান্তিরবাজার মহকুমার প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই সময় তৎকালীন মহকুমা শাসক সঞ্জীব চাকমাকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত শান্তিরবাজার মহকুমার জন্য স্থায়ীভাবে কোনও মহকুমা শাসক নিয়োগ করা হয়নি। বর্তমানে দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক শান্তি রঞ্জন চাকমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে মহকুমা শাসকের কাজ চালানো হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের উপর একাধিক দপ্তরের চাপ থাকায় তিনি নিয়মিতভাবে শান্তিরবাজার মহকুমা অফিসে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রশাসনিক কাজের উপর। ভূমি সংক্রান্ত নথি, শংসাপত্র, লাইসেন্স, সরকারি অনুমোদন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফাইল— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

স্থানীয়দের বক্তব্য, আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে বহু কাজ সম্পন্ন হত, এখন সেখানে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি হতে দেরি হওয়ায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, শান্তিরবাজার নগর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও এর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে, সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে টিসিএস অফিসারদের ব্যাপক রদবদল ও নতুন পোস্টিং হলেও কেন শান্তিরবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহকুমাকে উপেক্ষা করা হল? কেন এখনও স্থায়ী মহকুমা শাসক নিয়োগ করা হচ্ছে না? প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকলে প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক।

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এডিসি নির্বাচনের সময় ডাকবাংলো ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৎকালীন পরিস্থিতিতে মহকুমা শাসককে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তারপর থেকেই কার্যত অস্থায়ী দায়িত্বের উপর ভর করেই চলছে শান্তিরবাজার মহকুমার প্রশাসন।
সাধারণ মানুষের দাবি, সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ এই মহকুমায় দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী মহকুমা শাসক নিয়োগ করা হোক। কারণ প্রশাসনিক শূন্যতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবার উপর। উন্নয়নের গতি সচল রাখতে এবং প্রশাসনিক কাজে স্বাভাবিকতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে সর্বস্তর থেকে।
