“অবসরেও শেষ নয় ক্ষমতা! ৭ বার এক্সটেনশনে ফাইন্যান্স দপ্তরে অপূর্ব রায়”

দুরন্ত টিভি প্রতিনিধি, আগরতলা : ত্রিপুরা প্রশাসনের অন্দরে ফের উঠছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন—
রাজ্যে কি সত্যিই যোগ্য অফিসারের অভাব, নাকি নির্দিষ্ট কিছু অবসরপ্রাপ্ত আমলাকেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসিয়ে রাখা হচ্ছে?

এই বিতর্কের কেন্দ্রে এবার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার অপূর্ব রায়।
সরকারি সূত্রে খবর, ২০২২ সালে অবসর গ্রহণ করার পরেও তিনি এখনও অর্থ দপ্তরে কর্মরত। শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী, একবার নয়— টানা ৭ বার এক্সটেনশন অর্ডারের মাধ্যমে তাকে একই দপ্তরে রাখা হয়েছে।

ফলে সচিবালয়ের অন্দরে এখন জোর চর্চা—
এটা কি প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি নির্দিষ্ট “বিশ্বাসভাজন” আমলাদের ধরে রাখার নীতি?

প্রশ্ন উঠছে,
ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যে কি এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ছাড়া সরকার চলতে পারে না?

যদি যোগ্য অফিসারের অভাব না থাকে, তাহলে কেন বহু সিনিয়র ও যোগ্য আধিকারিক দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং থেকে বঞ্চিত?

অভিযোগ উঠছে, অর্থ দপ্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্বহাল সংস্কৃতি প্রশাসনের স্বাভাবিক পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বহু অফিসার বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা অর্জন করেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে পৌঁছাতে পারছেন না।

আরও বড় প্রশ্ন—

এক্সটেনশন কি ব্যতিক্রম হওয়ার কথা, নাকি এখন সেটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে?

৭ বার এক্সটেনশনের যৌক্তিকতা কী?

প্রতিটি এক্সটেনশনের ক্ষেত্রে কি আলাদা প্রশাসনিক মূল্যায়ন হয়েছে?

কোন বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে বারবার রাখা হচ্ছে, যা বর্তমান কর্মরত অফিসারদের মধ্যে নেই?

অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কি প্রশাসনের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?

ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। সচিবালয়ের একাংশের অভিযোগ, অবসরের পরেও গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার না ছাড়ার সংস্কৃতি প্রশাসনের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে।

কারণ, একজন অফিসার যখন চাকরির নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের অফিসারদের জন্য জায়গা তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে যদি অবসরপ্রাপ্তরাই বারবার এক্সটেনশন পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যান, তাহলে তরুণ ও যোগ্য অফিসারদের ভবিষ্যৎ কোথায়?

জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন বাড়ছে—

সরকার কি অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের দিয়েই প্রশাসন চালাতে চাইছে?

নতুন নেতৃত্বের উপর আস্থা নেই কেন?

গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও আর্থিক সিদ্ধান্তে একই মুখ বছরের পর বছর কেন?

প্রশাসনে কি “স্থায়ী প্রভাব বলয়” তৈরি হয়েছে?

সচিবালয়ে এখন দাবি উঠছে, অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের পুনর্নিয়োগ ও এক্সটেনশন নীতির সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হোক। কোন ভিত্তিতে, কতদিনের জন্য এবং কী প্রয়োজন দেখিয়ে এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছে— তা জনগণের সামনে আনুক সরকার।

কারণ প্রশ্ন এখন শুধু একজন অফিসারকে নিয়ে নয়—
প্রশ্ন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সুযোগের সমতা এবং নতুন প্রজন্মের অফিসারদের প্রতি সরকারের আস্থা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!