নিয়ম ভাঙার নীরব খেলা— জুনিয়র হয়ে সিনিয়র কে নিয়োগ পত্র! একই হাতে নিয়োগ, তদন্ত, রায়! প্রশাসনের আড়ালে গোপন চক্র—স্বচ্ছতা শুধু কাগজে?একই নাম, বারবার ক্ষমতা—এটা কি সিস্টেম, নাকি সাজানো স্ক্রিপ্ট? পড়ুন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, আগরতলা, দুরন্ত টিভি : কার স্বার্থে যোগ্যদের বঞ্চিত করে রিটায়ারদের একের পর এক নিয়োগ পত্র ? কেন গোপন করা হলো তদন্তকারী টিমের রিপোর্ট? মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টি জানেন কি? নাকি প্রশাসনের আড়ালে অদৃশ্য চক্র কায়েম ? নিয়োগ– তদন্ত– ক্ষমতার গোপন খেলায় কাঁপছে ত্রিপুরা! প্রক্রিয়া নাকি প্রহসন? একই নাম, একই ছক—প্রশাসনের ভেতরেই কি গড়ে উঠেছে সমান্তরাল শক্তিকেন্দ্র?”
ত্রিপুরার প্রশাসনিক করিডরে এখন একটাই ফিসফাস—এটা কি শুধুই নিয়মমাফিক প্রশাসন, নাকি এর আড়ালে চলছে এক সুপরিকল্পিত, অদৃশ্য ক্ষমতার খেলা? সাম্প্রতিক নথিপত্র, প্রশাসনিক সূত্র এবং ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ একত্রে রাখলে যে চিত্রটি সামনে আসছে, তা নিছক বিচ্ছিন্ন নয়—বরং একটি সুস্পষ্ট pattern, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।


এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসছে Debjani Deb (TCS, 2007 Batch)-এর নাম। 26 জুলাই 2024-এর গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Subhendu Dassgupta-কে বিভাগীয় তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে—আর সেই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন GA (AR) বিভাগের Joint Secretary হিসেবে দেবযানী দেব। কিন্তু এখানেই শুরু হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যেখানে Inquiry Authority নিয়োগের ক্ষমতা সাধারণত GA (P&T)-এর আওতায় পড়ে, সেখানে GA (AR)-এর একজন Joint Secretary কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? তিনি কি আদৌ competent authority ছিলেন, নাকি নিয়মকেই পাশ কাটানো হয়েছে?

আরও গুরুতর বিষয়—এই তদন্ত চলছে Rule-14 of CCS (CCA) Rules, 1965-এর অধীনে, যেখানে প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে নির্ধারিত। তাহলে কি সেই প্রক্রিয়া সত্যিই মানা হয়েছে, নাকি কোথাও ইচ্ছাকৃত ব্যত্যয় ঘটেছে? প্রশাসনের অন্দরেই এখন এই প্রশ্ন ঘুরছে প্রবলভাবে।
এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন সামনে আসে 09.10.2023-এর একটি গুরুতর অভিযোগ—তৎকালীন DM & Collector Dr. Vishal Kumar নাকি Debjani Deb-এর বিরুদ্ধে একটি FIR দায়ের করেছিলেন, যা Bishalgarh-এ জমি সংক্রান্ত অনিয়ম বা Land Scam-এর সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক মহলের দাবি—তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা তার controlling officer-এর পর্যবেক্ষণ এবং Accountant General (Audit)-এর নথিতেও প্রতিফলিত। এমনকি জনস্বার্থে মামলা (PIL) দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জোরালো ইঙ্গিত।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন আরও তীব্র—এত অভিযোগের পরেও কীভাবে একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা হয়? এটা কি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো স্বার্থের সমীকরণ?
অন্দরমহলে আরও বিস্ফোরক দাবি—Anindya Kumar Bhattacharya নাকি কার্যত দেবযানী দেবকে ছাড়া অচল, এবং শুনানির ক্ষেত্রেও তার উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাহলে Vigilance Department কেন নীরব? কেন এই রহস্যজনক ‘শীতঘুম’?
প্রশাসনের ভেতরে এখন একটাই প্রবাদ ঘুরছে—“সর্ষের ভেতরেই ভূত।”
অর্থাৎ, যে দপ্তরের দায়িত্ব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সেই দপ্তরের ভেতরেই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নিরপেক্ষতা কোথায় দাঁড়ায়?
এখানেই সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম—Subhendu Dassgupta। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও কেন বারবার সংবেদনশীল তদন্তের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি? 3 এপ্রিল 2023-এই তাকে Arbitration and Conciliation Act, 1996-এর অধীনে arbitrator panel-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—অর্থাৎ তিনি ইতিমধ্যেই একটি quasi-judicial কাঠামোর অংশ। তাহলে পুনরায় বিভাগীয় তদন্তে তার নিয়োগ কি স্বাভাবিক, নাকি এখানে স্পষ্ট conflict of role এবং natural justice-এর লঙ্ঘন?
এই সমগ্র চিত্রে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাম—A.K. Bhattacharjee।
প্রশাসনিক মহলের মতে, Debjani Deb, Subhendu Dassgupta এবং A.K. Bhattacharjee—এই তিনজনকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক সুসংগঠিত ক্ষমতার বলয়, যেখানে সিদ্ধান্ত, তদন্ত এবং ফলাফল—সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে—সংবেদনশীল মামলাগুলো কি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে? এটা কি কাকতালীয়, নাকি একটি সুপরিকল্পিত “pattern of allocation”?
আর সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন—এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কি কোনো আর্থিক স্বার্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার গোপন সমীকরণ কাজ করছে?
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তবুও একই নামের পুনরাবৃত্তি, একই ধাঁচের সিদ্ধান্ত এবং একই বৃত্তের আধিপত্য—এই প্রশ্নগুলোকে আর চাপা রাখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, এটি আর শুধু একটি তদন্ত নয়—এটি প্রশাসনের ভেতরের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতার লড়াই।
এই জায়গায় এসে আরও একটি সংবেদনশীল প্রশ্ন সামনে আসে—এই প্রক্রিয়ার পেছনে কি কোনো আর্থিক স্বার্থঘনিষ্ঠ সমীকরণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার অদৃশ্য সমীকরণ কাজ করছে? যদিও এই ধরনের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রশাসনের ভেতরের ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি এবং একই নামগুলোর ঘন ঘন উপস্থিতি—এই প্রশ্নকে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ এখন শুধুমাত্র একটি পৃথক তদন্তের বিষয় নয়। বরং এটি প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। উত্তর এখনো অমীমাংসিত।
করিডরের ফিসফাস এখন ক্রমশ গর্জনে পরিণত হচ্ছে—
এটা কি প্রশাসন, নাকি প্রশাসনের আড়ালে আরেকটি অদৃশ্য প্রশাসন।
বিষয়টি কতটুকু জানেন সেটাও প্রশ্ন উঠছে মহাকরণে। কেউ কেউ বলছেন ওই ঘটনার ফাইল মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার নজরে না আসার কারণেই এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!