ভারতের প্রেস ফ্রিডম নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়, কিন্তু ২০২৬ সালের সূচক বিষয়টাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—তুলনাটা যতটা নাটকীয় শোনায়, বাস্তবটা একটু বেশি জটিল।
(RSF)–এর প্রকাশিত World Press Freedom Index 2026-এ ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৫৭তম। আগের বছরের ১৫১তম স্থান থেকে এটি একটি পতন, যা ইঙ্গিত দেয় যে সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ কিছুটা কঠিন হয়েছে।
কী বোঝাচ্ছে এই র্যাঙ্ক?
এই সূচক শুধু “সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা” নয়—বরং ৫টি মূল দিক বিবেচনা করে:
- রাজনৈতিক চাপ
- আইনি কাঠামো
- অর্থনৈতিক প্রভাব
- সামাজিক পরিবেশ
- সাংবাদিকদের নিরাপত্তা
অর্থাৎ, এটি একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন—not just censorship.
কেন পিছোচ্ছে ভারত?
কয়েকটি বড় কারণ উঠে এসেছে বিশ্লেষণে—
১. আইনি চাপ ও কঠোর আইন ব্যবহার
(UAPA) সহ কিছু আইন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এগুলো কখনও কখনও সাংবাদিকদের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২. মিডিয়া মালিকানার কেন্দ্রীকরণ
বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ বাড়লে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে—এটা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বজুড়েই একটি ট্রেন্ড।
৩. মাঠপর্যায়ের ঝুঁকি
জেলা বা গ্রামীণ সাংবাদিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক চাপ বা এমনকি শারীরিক আক্রমণের মুখে পড়েন বেশি।
৪. ডিজিটাল হুমকি
অনলাইন ট্রলিং, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে, বড় একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান বা সংঘাতপূর্ণ এলাকার চেয়ে নিচে কেন?
তালিকায় (১৫৩) বা (১৫৪)-এর উপরে থাকা দেখে অবাক লাগতে পারে।
কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—
RSF স্কোর দেয় ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী, শুধু “যুদ্ধ আছে কি নেই” দিয়ে নয়।
- সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শারীরিক ঝুঁকি বেশি
- ভারতে সমস্যা বেশি “স্ট্রাকচারাল” বা কাঠামোগত—আইন, মালিকানা, চাপ, স্ব-সেন্সরশিপ
তাই সরাসরি তুলনা করলে ছবিটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
শীর্ষে থাকা দেশগুলো—যেমন ও —দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন মিডিয়া কাঠামো বজায় রেখেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রেস ফ্রিডম শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়—
এটা সরাসরি যুক্ত:
- তথ্য জানার অধিকার
- গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ
যখন মিডিয়া দুর্বল হয়, তখন misinformation বাড়ে এবং জবাবদিহিতা কমে।
সংক্ষেপে (Modern Take)
ভারতের ১৫৭তম র্যাঙ্ক একটা “রেড ফ্ল্যাগ”—
কিন্তু এটাকে শুধু “দেশ খারাপ হয়ে গেছে” বললে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ হবে।
👉 বাস্তবতা হলো:
- সরাসরি সেন্সরশিপ কম, কিন্তু চাপ আছে
- আইনি ও কর্পোরেট প্রভাব বাড়ছে
- গ্রাউন্ড লেভেলে সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ
👉 সমাধানের দিক:
- আইনি স্বচ্ছতা
- মিডিয়ার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
- সাংবাদিক সুরক্ষা
শেষ কথা—
প্রেস ফ্রিডমের এই ইস্যুটা রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে দেখা দরকার। কারণ এটা শেষ পর্যন্ত জনগণের জানার অধিকার–এর প্রশ্ন।
