বিশেষ সংবাদদাতা, দুরন্ত টিভি: সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানির সমস্যা মেটাতে এক পুরোনো পন্থার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গণবণ্টন ব্যবস্থার (PDS) মাধ্যমে ‘সুপিরিয়র কেরোসিন তেল’ (SKO) বিতরণের পাশাপাশি এখন থেকে অনুমোদিত পাম্প বা ডিলারদের মাধ্যমেও এই তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ কমাতে এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
রেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার পেট্রোল পাম্পেও কেরোসিন পাবে সাধারণ মানুষ।
এতদিন কেরোসিন প্রধানত রেশন দোকানের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিতভাবে বিলি করা হতো। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সাধারণ মানুষ লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাম্প থেকেও কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন। এর ফলে রান্নার গ্যাসের (LPG) ওপর চাপ কমবে এবং বিকল্প জ্বালানির হিসেবে কেরোসিন ব্যবহার করবে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষেরা।
ভারতের নির্বাচিত ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই পরিষেবা চালু হচ্ছে।
ডিলার বা পাম্প মালিকরা সর্বোচ্চ ৫,০০০ লিটার পর্যন্ত সুপিরিয়র কেরোসিন তেল (SKO) মজুত রাখতে পারবেন। এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে কালোবাজারি রোখা যায় এবং তেলের নিয়মিত জোগান বজায় থাকে।
রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য এই ‘সুপিরিয়র’ গ্রেডের তেলটি অধিক কার্যকর এবং এটি তুলনামূলক কম দূষণ ছড়ায়।
গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে এলাকায় অনেক পরিবার এখনও পুরোপুরি এলপিজি সিলিন্ডারের খরচ বহন করতে পারে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পৌঁছাতে দেরি হলে কেরোসিনই হয়ে ওঠে প্রধান ভরসা। পাম্পে কেরোসিন বিক্রির অনুমতি দেওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো সময় তাদের প্রয়োজনমতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রশাসনের নজরদারি
৫,০০০ লিটারের স্টক লিমিট কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং খাদ্য দপ্তর নিয়মিত পাম্পগুলোতে পরিদর্শন চালাবে যাতে ওজনে কারচুপি বা কৃত্রিম অভাব তৈরি না করা হয়। রাজ্য সরকারগুলোকে দ্রুত এই বণ্টন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পরিকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে গ্যাসের চাপ কমাতে কেরোসিন দিয়ে রান্নার পুরনো পন্থাকে বেছে নিল কেন্দ্রীয় সরকার
