সংবাদ প্রতিনিধি,উদয়পুর:
পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের চরম গরমিল—আর তার বলি সাধারণ মানুষ। উদয়পুরের উত্তর মহারানী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সদ্য নির্মিত রাস্তা মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ড্রেজার দিয়ে কেটে ড্রেন তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন তথাকথিত নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, পূর্ত দপ্তর থেকে নতুন করে তৈরি হওয়া রাস্তা, যা ফায়ার সার্ভিস চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিকেই রাতারাতি কেটে সরু করে ফেলা হয়েছে। শুধু ড্রেনই নয়, একই সঙ্গে কেটে ফেলা হয়েছে পানীয় জলের পাইপলাইন—ফলে গত ১০ দিন ধরে এলাকায় জল পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—পুরো কাজটি করা হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ম ও প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা সম্পূর্ণ অমান্য করে। কোথায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার? কেন কাজের সাইটে তার উপস্থিতি নেই? প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক দিয়ে কাজ করার বরাদ্দ থাকলেও তা উপেক্ষা করে ড্রেজার ব্যবহার করা হয়েছে, এবং শ্রমিকদের নামে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ছাড়াই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে পানীয় জলের পাইপলাইন মেরামত বা নতুন সংযোগ দিতে মারাত্মক সমস্যা হবে। পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে—যা একটি বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।
অভিযোগের তীর এলাকার দুজন সদ্য নেতার বিরুদ্ধে। মাতাবাড়ি ব্লকের বিডিও এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে জানানোর পরেও কেন তাদের তত্ত্বাবধানে এই অনিয়ম? কার স্বার্থে সরকারি অর্থের এই অপচয়?
স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন—কারণ অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী নেতার হুমকি ও গালিগালাজে ভীত সাধারণ মানুষ।
প্রশ্ন একটাই—
সরকারি প্রকল্প কি জনস্বার্থে, নাকি কিছু “চুনোপুটি নেতার” পকেট ভরার জন্য?
এখন দেখার, প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগে কী ব্যবস্থা নেয়, নাকি সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায় আগের মতোই।
উদয়পুরের উত্তর মহারানী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নের নামে চলছে বেপরোয়া অনিয়মের খেলা—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। সদ্য নির্মিত রাস্তা মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ড্রেজার দিয়ে কেটে ড্রেন তৈরির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে প্রায় দেড়শ’রও বেশি পরিবার।
অভিযোগের তীর সরাসরি ব্লকের বিডিও বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের দিকে নয়, বরং কতিপয় প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের স্বার্থে পরিকল্পনাহীনভাবে এই কাজ করাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের কথায়,
নতুন রাস্তা তৈরি হওয়ার পরই হঠাৎ করে ড্রেন নির্মাণের নামে রাস্তা কেটে সরু করে ফেলা হয়েছে। এর ফলে বড় গাড়ি—বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিস বা জরুরি পরিষেবার যানবাহন—যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হবে।
এলাকায় রয়েছে একটি মন্দির ও একটি মসজিদ, যেখানে প্রতিদিন বহু মানুষের যাতায়াত। রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—এই কাজের ফলে ইতিমধ্যেই পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু পরিবার জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য—
“এই দুর্নীতির খেলা বন্ধ করতে হলে ব্লকের বিডিওকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই অনিয়ম থামবে না।”
সাথে সাথে বিষয়টি জেলা শাসকের নজরেও নেওয়া হয়েছে।
