নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা:
ত্রিপুরার কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য নির্ধারণী ‘স্থির বেতন’ (Fixed Pay) ইস্যুতে বড়সড় মোড়। ত্রিপুরা হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়টির ওপর আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড় ধরনের আর্থিক দায়ভার থেকে সাময়িক স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ত্রিপুরায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা ‘স্থির বেতন’ নীতি বা ফিক্সড পে সিস্টেমে কর্মীদের নিয়োগ করা হতো। এই পদ্ধতির বৈধতা এবং সমকাজে সমবেতনের দাবিতে কর্মচারীদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
হাইকোর্টের রায়: ত্রিপুরা হাইকোর্ট কর্মচারীদের পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্থির বেতনের কর্মীদের নিয়মিত স্কেলে বেতন প্রদান করতে হবে এবং বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।
রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ: হাইকোর্টের এই রায় কার্যকর করলে সরকারি কোষাগারে বিপুল আর্থিক চাপ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি পিটিশন (SLP) দাখিল করে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
আজকের শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করা হয়। বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছে:
স্থগিতাদেশ: ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশিকার ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখনই সরকারকে ওই রায় কার্যকর করতে হচ্ছে না।
নোটিশ জারি: এই ইস্যুতে মামলার অন্য পক্ষদের (রেসপন্ডেন্ট) নোটিশ পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
পরবর্তী তারিখ: মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৯ মার্চ, ২০২৬।
অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনগুলোর মতে, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক। তারা আশাবাদী যে চূড়ান্ত শুনানিতে কর্মীদের ন্যায়বিচার মিলবে এবং ‘স্থির বেতন’ প্রথার অবসান ঘটবে।
পরবর্তী আপডেট: ৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে যখন চূড়ান্ত বিতর্ক শুরু হবে, তখন বোঝা যাবে রাজ্য সরকারের যুক্তি কতটা ধোপে টেকে নাকি হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকে।
রাজ্যের স্বস্তি, কর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষা: ফিক্সড পে ইস্যুতে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ।
