নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্রামগঞ্জ | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬বিশ্রামগঞ্জ: বিশালগড় মহকুমার বিশ্রামগঞ্জ এখন উত্তপ্ত এক জনপদ। একদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৪৯ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের হেডকোয়ার্টার স্থাপনের তোড়জোড়, অন্যদিকে বিশ্রামগঞ্জকে নতুন করে ‘নগর পঞ্চায়েত’ হিসেবে ঘোষণা—এই দুই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই জনরোষ আছড়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গণআন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছে খোদ শাসক জোটের অন্যতম শরিক দল তিপ্রা মথা।
নগর পঞ্চায়েত গঠনের বিরোধিতায় ভূমিপুত্ররাবিশ্রামগঞ্জকে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ‘নগর পঞ্চায়েত’ বা শহুরে সংস্থায় উন্নীত করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন বড়জলা, চিকনছড়া ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। তিপ্রা মথা-র স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি: নগর পঞ্চায়েত হলে গ্রামীণ স্বকীয়তা হারিয়ে যাবে এবং প্রান্তিক মানুষের ওপর অতিরিক্ত কর বা ট্যাক্সের বোঝা চাপবে। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী ও পশুপালক। নগর এলাকার আইনি বেড়াজালে তাদের চিরাচরিত জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় যে ধরনের সরাসরি ক্ষমতা বা ‘ভিলেজ কাউন্সিল’ সুলভ অধিকার থাকে, তা খর্ব হওয়ার ভয়ে গ্রামবাসী আতঙ্কিত।

বিএসএফ হেডকোয়ার্টার ও উচ্ছেদ আতঙ্কনগর পঞ্চায়েত গঠনের বিরোধিতার মাঝেই বিএসএফের হেডকোয়ার্টার স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া আগুনের ঘি ঢেলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য যে জমি বাছা হয়েছে, তাতে বড়জলা ও চিকনছড়া এলাকার কয়েকশ পরিবারের বসতবাড়ি ও উর্বর বাগান-কৃষিজমি রয়েছে।তিপ্রা মথা-র কঠোর অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিলসোমবার বিশ্রামগঞ্জ বাজারে তিপ্রা মথা-র নেতৃত্বে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। শাসক শরিক হওয়া সত্ত্বেও তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মানুষের চোখের জল ফেলে কোনো উন্নয়ন আমরা চাই না।” বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত জনজাতি ও অ-জনজাতি নেতৃত্ব একসুরে বলেন:> “বিশ্রামগঞ্জকে জোর করে নগর পঞ্চায়েত করা চলবে না। একইভাবে মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়ে বিএসএফ ক্যাম্প করাও আমরা মেনে নেব না। সরকার আমাদের সাথে আছে ঠিকই, কিন্তু জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।”> প্রশাসনের কাছে চরমপত্রমিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা মহকুমা প্রশাসনের (SDM) মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে একটি কড়া স্মারকলিপি প্রদান করেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে:১. অবিলম্বে বিএসএফ হেডকোয়ার্টারের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে।২. জনবসতিহীন কোনো বিকল্প জায়গায় ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হবে।৩. স্থানীয় জনগণের মতামত না নিয়ে জোর করে ‘নগর পঞ্চায়েত’ গঠন করা যাবে না।বর্তমান পরিস্থিতিবর্তমানে বিশ্রামগঞ্জ, বড়জলা ও চিকনছড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে এলাকাকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি লক্ষ্য, অন্যদিকে শরিক দল ও সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই দ্বিমুখী প্রতিবাদের জেরে প্রশাসন এখন পিছু হটে কি না, নাকি সরকার আলোচনার পথে হাঁটে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
