একই আদেশে পরস্পর বিরোধী নির্দেশ! অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যের পুনর্নিয়োগ ঘিরে প্রশ্নের ঝড়

আগরতলা প্রতিনিধি, দুরন্ত টিভি:

রাজ্য প্রশাসনের একটি সরকারি আদেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যের ষষ্ঠবারের মতো পুনর্নিয়োগ সংক্রান্ত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখের সরকারি আদেশে পরস্পরবিরোধী দুটি নির্দেশ থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরমহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

সরকারি আদেশের প্রথম প্যারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যের পুনর্নিয়োগ ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং তা ছয় মাসের জন্য বহাল থাকবে। অর্থাৎ, পুনর্নিয়োগের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু একই আদেশের দ্বিতীয় প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তী নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জিএ (এআর) দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভিজিল্যান্স বিভাগের ডিরেক্টর পদেও বহাল থাকবেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি পুনর্নিয়োগের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস হয়, তাহলে “নতুন আদেশ না হওয়া পর্যন্ত” দায়িত্বে বহাল থাকার নির্দেশ কোন আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তিতে দেওয়া হলো?

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, একই আদেশে দুটি ভিন্ন ধরনের সময়সীমা উল্লেখ করা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুতর বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। একটি অংশ নির্দিষ্ট মেয়াদের কথা বলছে, অন্য অংশ কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য দায়িত্বে বহাল থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আদেশটির ব্যাখ্যা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় আর্থিক বিধি (Fundamental Rules)-এর FR 56 অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ও অবসর-পরবর্তী পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিবেচিত হয়। সাধারণভাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়। পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ, দায়িত্ব ও শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অন্যতম শর্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তারা কি এই আদেশের পরস্পরবিরোধী ভাষা সম্পর্কে অবগত ছিলেন? মুখ্যসচিবের দপ্তর কি আদেশটি জারির আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি? নাকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরেই এমন অসঙ্গতি এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে?

রাজ্যে সুশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি যখন বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, তখন একই সরকারি আদেশে এমন দ্বৈত অবস্থান সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে প্রশাসনিক মহল ও জনমনে জল্পনা-কল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।

এখন দেখার বিষয়, সরকার এই বিতর্কিত আদেশের বিষয়ে কোনও স্পষ্টীকরণ দেয় কি না, নাকি প্রশ্নগুলির উত্তর অধরাই থেকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!