নিজস্ব প্রতিনিধি, দুরন্ত টিভি : ত্রিপুরার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীর নামের আগে ‘ডক্টর’ বা ‘Dr’ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উপলব্ধ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী ২০০৬ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা। তিনি স্টেট সিভিল সার্ভিস (SCS) থেকে আইএএস পদে উন্নীত হন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমবিএ এবং বি.এ. (অনার্স)-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে প্রকাশ্যে উপলব্ধ এই তথ্যগুলিতে পিএইচডি ডিগ্রির কোনও উল্লেখ দেখা যায় না।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নামের আগে ‘Dr’ ব্যবহার করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তিনি কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেননি। বরং অলটারনেটিভ মেডিসিন বা হোমিওপ্যাথি সংশ্লিষ্ট কোনও সংস্থার মাধ্যমে আরএমপি (Registered Medical Practitioner) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সূত্রে ‘Dr’ উপাধি ব্যবহার শুরু করেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর এই কারণে যে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা রাধাকৃষ্ণ মাথুর নাকি তাঁকে নামের আগে ‘Dr’ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জানা যায়, আর. কে. মাথুর রাজ্যে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী প্রকাশ্যে ‘Dr’ উপাধি ব্যবহার করতেন না।
কেউ কেউ বলছেন মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু ডাঃ উপাধি লাগান সেহেতু সচিব হিসেবে তিনিও কম নন, তাই তো তিনি ডক্টর উপাধি লাগিয়ে দিব্যি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন

তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে তিনি দাবি করে বেড়াচ্ছেন যে, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের কারণেই তিনি নামের আগে ‘Dr’ ব্যবহার করছেন। প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন, তাহলে সেই ডিগ্রি কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, কবে এবং কোন বিষয়ে অর্জিত হয়েছে—তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করা উচিত কি না।
একজন সাবেক শীর্ষ আমলার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত পরিচয় ও উপাধি ব্যবহারের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়, জনস্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। তাই ‘Dr’ উপাধি ব্যবহারের পেছনে প্রকৃত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও নাগরিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
