অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃনিয়োগে ফুঁসছে সচিবালয়, “যোগ্যদের বঞ্চিত করে ৬০ এর পর ৭১ এও কেন পুনর্বাসন!” — প্রশাসনের অন্দরেই বিস্ফোরক ক্ষোভ, বাড়ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, দুরন্ত টিভি:

রাজ্য সচিবালয়ে এখন সবচেয়ে চর্চিত বিষয় — অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের একের পর এক পুনঃনিয়োগ। প্রশাসনিক অন্দরমহলে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বহু অফিসার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও, ভিতরে ভিতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন অধিকাংশ কর্মচারী ও আধিকারিক।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পুনরায় অবসরপ্রাপ্তদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা চললে প্রশাসনের ভেতর আরও বড় “অঘটন” ঘটতে পারে। এমনকি ক্ষুব্ধ একাংশ গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথি ও ফাইল প্রকাশ্যে এনে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলে খবর। ফলে গোটা সচিবালয় জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

বর্তমানে তিন অবসরপ্রাপ্ত আমলার পুনঃনিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এরা হলেন —
অরুণ কুমার রায়, অতিরিক্ত সচিব, রাজস্ব দপ্তর,
অসীম সাহা, ডিরেক্টর, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ম্যানপাওয়ার,
এবং
রঞ্জিত দাস, জয়েন্ট কমিশনার, ত্রিপুরা ভবন, দিল্লি।

অভিযোগ, এই ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে দ্রুত পাশ করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আকিঞ্চন সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নিজের ঘনিষ্ঠ সিনিয়র অফিসারদের ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রীর উপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা এখনও পর্যন্ত এই ফাইল অনুমোদনে অনাগ্রহী বলেই খবর।

প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে কি যোগ্য অফিসারের অভাব পড়েছে? হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী চাকরির আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ একই ব্যক্তিদের বারবার পুনঃনিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে “ব্যক্তিগত স্বার্থের ক্লাব”-এ পরিণত করার অভিযোগ উঠছে সরকারের অন্দর থেকেই।

চায়ের দোকান থেকে পার্টি অফিস, সচিবালয়ের করিডোর থেকে যুব সমাজের আড্ডা— সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, “সরকার কি অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হয়ে যাচ্ছে?” সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বার্তা অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃনিয়োগকে ঢাল করে পরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ভাবমূর্তি নষ্ট করার খেলাও শুরু হয়েছে। আর এই খেলায় সবচেয়ে সক্রিয় তথাকথিত “সুবিধাবাদী লবি”, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে আকিঞ্চন সরকার ও অবসরপ্রাপ্ত অরুণ কুমার রায়ের ঘনিষ্ঠ সমীকরণ। সচিবালয় সূত্রে দাবি, আকিঞ্চন সরকারকে রক্ষা করতে যেমন সক্রিয় হয়েছেন অরুণ কুমার রায়, তেমনই অরুণ কুমার রায়ের পুনঃনিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে “ওভারটাইম” খাটছেন আকিঞ্চন সরকার নিজে। প্রশাসনিক মহলে এই “তুই আমাকে বাঁচা, আমি তোকে বাঁচাই” সমীকরণ নিয়েই এখন তুমুল গুঞ্জন।

অন্যদিকে অর্থ দপ্তরে আউটসোর্সিং স্টাফদের গোপনে ও “বাঁকা পথে” রেগুলার করার প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী লবি।

ফলে প্রশ্ন উঠছে —
প্রশাসন কি এখন যোগ্যতা দিয়ে চলবে, নাকি লবিং ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে?
সরকার কি সত্যিই নতুন প্রজন্মের জন্য চাকরির দরজা খুলতে চায়, নাকি অবসরপ্রাপ্তদের জন্যই তৈরি হচ্ছে “স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থা”?

পরবর্তী পর্বে —

আউটসোর্সিং স্টাফদের রেগুলার করার নেপথ্যের গোপন খেলা, প্রশাসনিক লবিং, এবং আরও বিস্ফোরক তথ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!