অবসর ২০২৩-এ, তবুও রঞ্জিত দাসের একের পর এক এক্সটেনশন—FR 56 কি তবে শুধুই কাগুজে নিয়ম? দিল্লিতে রঞ্জিত দাসের নিয়োগ ঘিরে মহাকরণে প্রশ্ন—এটা প্রশাসন, নাকি আকিঞ্চন লবির সাম্রাজ্য!

“অবসরেও শেষ নয় দায়িত্ব! দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে আবারও এক্সটেনশনের বিতর্ক”


স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, দুরন্ত টিভি ওয়েব: অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের একের পর এক পুনঃনিয়োগ নিয়ে যখন ইতিমধ্যেই প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার, ঠিক তখনই দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে অবসরপ্রাপ্ত টিসিএস অফিসার রঞ্জিত দাসকে ঘিরে উঠছে নতুন বিতর্ক।
ত্রিপুরা প্রশাসনের অন্দরমহলে ফের উঠছে বড় প্রশ্ন। অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনঃনিয়োগ কি এখন নিয়ম, নাকি অদৃশ্য স্বার্থরক্ষার স্থায়ী বন্দোবস্ত? দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে অবসরপ্রাপ্ত টিসিএস অফিসার রঞ্জিত দাসকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
২০২৩ সালে অবসর গ্রহণের পরেও দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে রেসিডেন্সিয়াল কমিশনার পদে একের পর এক এক্সটেনশন পেয়ে চলেছেন তিনি। সূত্রের খবর, এবার নাকি ষষ্ঠ দফার এক্সটেনশনের আবেদনও করা হয়েছে। আর এই নিয়েই প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে গুঞ্জন, ক্ষোভ ও অসন্তোষ।


প্রশ্ন উঠছে—ত্রিপুরায় কি যোগ্য অফিসারের এতটাই অভাব?
যেখানে বহু কর্মরত সিনিয়র অফিসার দিল্লি ত্রিপুরা ভবনে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেখানে কেন বারবার অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদেরই ভরসা করছে সরকার?
অভিযোগ উঠছে, বহু যোগ্য ও কর্মরত অফিসার দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে পোস্টিং চাইলেও রঞ্জিত দাসের একের পর এক এক্সটেনশনের কারণে তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদোন্নতি ও পোস্টিং প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
মহাকরণের করিডোরে এখন ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—
“যোগ্য অফিসাররা কি ইচ্ছাকৃতভাবেই বঞ্চিত হচ্ছেন?”
শুধু রঞ্জিত দাস নন, দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে কর্মরত রয়েছেন আরও যোগ্য টিসিএস অফিসার। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে—এ কি প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা?
অভিযোগের তীর ঘুরে যাচ্ছে সেই বিতর্কিত টিসিএস অফিসার আকিঞ্চন সরকারের দিকেও। মহাকরণের করিডোরে এখন সরব ফিসফাস—
এই ধারাবাহিক পুনঃনিয়োগের পেছনে নাকি জড়িয়ে রয়েছে বিতর্কিত টিসিএস অফিসার আকিঞ্চন সরকারের স্বার্থ। যদিও সরকারিভাবে এই অভিযোগের কোনো উত্তর এখনো মেলেনি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কেন্দ্রীয় সার্ভিস রুল FR 56 নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
FR 56 অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ৬০ বছরের পর পুনঃনিয়োগ করা যাবে না, এমনই বলা হয়েছে রুলে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নতুন অফিসারদের সুযোগ এবং স্বাভাবিক পদোন্নতির স্বার্থে অযথা এক্সটেনশন না দেওয়ার নীতিও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টও একাধিক মামলায় স্পষ্ট করেছে—
“Re-employment should be an exception, not a routine administrative culture.”
কিন্তু ত্রিপুরায় কি সেই ব্যতিক্রমই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে?


প্রশ্ন আরও উঠছে—
একদিকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের বারবার চুক্তি ভিত্তিক পুনঃনিয়োগ। তাহলে কি প্রশাসনে নতুন প্রজন্মের জন্য দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
এছাড়াও আদালত বলেছে—
“Retired officers cannot be allowed to continue indefinitely at the cost of serving officers.”
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—ত্রিপুরায় কি সেই নির্দেশিকাকেই কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে?
একদিকে কর্মরত অফিসাররা পোস্টিং থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের একের পর এক এক্সটেনশন। এতে প্রশাসনের ভেতরেই বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
মহাকরণের অন্দরেই এখন কড়া ভাষায় আলোচনা—
“ত্রিপুরায় অবসর মানেই বিদায় নয়, বরং নতুন করে ক্ষমতায় ফেরার লাইসেন্স!”
মহাকরণের অন্দরেই এখন ফিসফাস—
“ত্রিপুরায় কি অবসর গ্রহণ মানেই এখন নতুন নিয়োগের যোগ্যতা?”
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!