স্টাফ রিপোর্টার, দুরন্ত টিভি, আগরতলা: ফের দেশের সংবাদ শিরোনামে ত্রিপুরার নাম। ত্রিপুরার সর্বোচ্চ পুলিশ আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যু। সোমবার সকালবেলায় নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসেন পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধনকর, অফিসে এসে কাজও শুরু করেছেন। বাইরের প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য গাড়ি রেডি রাখার কথাও বলেন। এরই মধ্যে এমন কি হলো যার জন্য ফাঁসিতে আত্মহত্যা করতে হলো পুলিশ মহা নির্দেশককে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে এদিন তিনি অফিসে আসার পর মানসিক চাপে ছিলেন।

অফিসে কর্মরত অন্যান্য স্টাফদের ১০ থেকে ১৫ মিনিট তার রুমে আসতে বারণ করেও ছিলেন। কিন্তু কেউ অনুমান করতে পারেনি। সেই 15 মিনিটে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন। গাড়ি বের করতে বলার প্রায় কুড়ি মিনিট পরেও তিনি যখন বাথরুম থেকে বের হচ্ছিলেন না তখন অনান্য উচ্চপদস্থ অফিসাররা অন্যান্য স্টাফরা মিলে ডাকাডাকি করতে থাকেন ডিজি সাহেবকে। বাথরুমের দরজা বন্ধ দেখে ধাক্কা দিতে থাকেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেকে আনা হয় কার্পেন্টারকে। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখেন ডিজিপির ঝুলন্ত দেহ। এমন কি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পুলিশ মহা নির্দেশকের মতো আধিকারিককে অফিসের ভিতরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। বাথরুমের পরিস্থিতি দেখে খবর দেয়া হয় অনুরাগ ধনকরের স্ত্রীকেও।

খবর দেওয়া হয় ফরেনসিক টিমকে। তখন উপস্থিত সবাই বুঝতে পারেন যে, ত্রিপুরা পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিক দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। তারপরও বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করা হয় জিবি হাসপাতালে নিয়ে। দীর্ঘক্ষণ সি পি আর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষে ডক্টর প্রদীপ ভৌমিক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ মহা নির্দেশকের মৃত্যু বহু প্রশ্নের সৃষ্টি করে দিয়ে গেছেন। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে থাকা ব্যক্তির আত্মহত্যার কারণ নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্যে। কিছুদিন আগে জিএ এআর দপ্তরের ডিরেক্টর অনিন্দকুমার ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন ডিজি লেন্স এসপি জেরেমিয়া ডারলং, সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশ মহা নির্দেশকের নিজ অফিসেই আত্মহত্যার ঘটনা কিসের ইঙ্গিত বহন করছে? মহা নির্দেশকের মতো আধিকারিকের আত্মহত্যার ঘটনাটি আগামী দিনে প্রকাশ পাবে নাকি চাপা পড়ে যাবে সেটা বলা সময়ের অপেক্ষা
