তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট এলাকার কঞ্জমুড়া মুসলিম বস্তিতে শনিবার সকালে মাটি ধসের ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে শনিবার সকালে ওই এলাকায় যান কঞ্জমুড়ার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি জেমস জমাতিয়া, ৩০ বছর বয়সি আশা হরি জমাতিয়া এবং ৩০ বছর বয়সি অমূল্য ধন জমাতিয়া। মাটি কাটার সময় আচমকাই একটি বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়ে তাদের ওপর।
ঘটনা ঘটতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রশাসনের জন্য অপেক্ষা না করে এলাকাবাসীর উদ্যোগেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধারকাজে গুরুতর আহত অবস্থায় বের করে আনা হয় অমূল্য ধন জমাতিয়াকে। তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, টিএসআর এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও টিএসআর জওয়ানরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উল্লেখযোগ্য দেরি করে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আধিকারিক জিনিয়াস দেববর্মাকে হাসপাতালে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যান মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তীও। তিনি আহতের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় কঞ্জমুড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আবারো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
