বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ: মধুপুর পুলিশের জালে অভিযুক্ত, শাসকদলের দাপট দেখানোর অভিযোগে উত্তাল হরিহরদোল

মধুপুরে বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার অভিযুক্ত চন্দন সরকার


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশালগড়:
ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মধুপুর থানার অন্তর্গত কোনাবন হরিহরদোলা সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫০ ঊর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে। অভিযুক্তের নাম চন্দন সরকার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ, ওই কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল চন্দন সরকার। গত দুই দিন আগেও সে একই কাণ্ড ঘটায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; কিশোরীর বাবার হাতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় শাসকদলের নাম ভাঙিয়ে এক শ্রেণির ‘চুনোপুটি’ নেতা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। এমনকি, নির্যাতিতার পরিবারকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ভয় দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক মন্ডল সদস্যের উপস্থিতিতে গোপনে মীমাংসা সভা বসিয়ে কিশোরীর পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার সকালে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের (DGP) দপ্তরে পৌঁছায়। ডিজেপি সাথে সাথেই সিপাহীজলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মাকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই মঙ্গলবার দুপুরে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মধুপুর থানার ওসি, বিশালগড় মহিলা থানার পুলিশ এবং টিএসআর (TSR) বাহিনী বিশাল পুলিশি বহর নিয়ে হরিহরদোলা বাজারে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চন্দন সরকার পালানোর চেষ্টা করে একটি ডোবায় ঝাঁপ দেয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে সেখান থেকেই টেনে হিঁচড়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে বিশালগড়ের ডিসি এবং চাইল্ড লাইনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নির্যাতিতা কিশোরী ও তার মাকে আইনি সহায়তার জন্য চাইল্ড লাইন অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, চন্দন সরকার এলাকায় একজন কুখ্যাত পাচারকারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অতীতেও নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রথম স্ত্রী চন্দনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এছাড়া এলাকায় অন্য এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে পুলিশের চাপে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল সে।

অভিযুক্ত চন্দনের বর্তমান স্ত্রী স্থানীয় শাসকদলের মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা। অভিযোগ, তার স্ত্রী এবং নিকট আত্মীয় মন্ডল সদস্য সমীরের রাজনৈতিক দাপট ও বিধায়িকার প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতিতা পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে থাকলেও, স্থানীয়দের দাবি—রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চন্দন সরকার যাতে কোনোভাবেই পার না পায়। গোটা এলাকা এখন অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল। আইনের হাত কতদূর পর্যন্ত অভিযুক্তকে পৌঁছে দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!