নিজস্ব সংবাদদাতা l সাব্রুম l দুরন্ত টিভি :
সাব্রুমে একটি বেসরকারি মাইক্রো ফাইন্যান্স সংস্থার বিরুদ্ধে ঋণের কিস্তির টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে মহকুমাজুড়ে। অভিযোগের জেরে এক হতদরিদ্র পরিবারের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং তাদের কলেজপড়ুয়া কন্যার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী জহর লাল দাস, সাতচাঁদ আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত থাইবুং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি সাব্রুমের আনন্দপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘ভিলেজ’ নামক একটি মাইক্রো ফাইন্যান্স সংস্থার শাখা থেকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এরপর নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে ৪,৬৫৬ টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি নগদ অর্থ সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের হাতে জমা দিয়ে ঋণপুস্তকে স্বাক্ষর ও এন্ট্রি গ্রহণ করতেন। এছাড়া দুটি কিস্তি গুগল পের মাধ্যমেও প্রদান করা হয় বলে তাঁর দাবি।

সম্প্রতি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে অন্য একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নেন জহর লাল দাস। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর সিবিল (ক্রেডিট) রিপোর্টে সমস্যা রয়েছে। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট মাইক্রো ফাইন্যান্স সংস্থার শাখা অফিসে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সামনে আসে বলে অভিযোগ।
জহর লাল দাসের দাবি, প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরে শাখা ব্যবস্থাপক অভিজিৎ সরকার সমস্যার কথা স্বীকার করেন এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে ঋণ হিসাব সংশোধন ও সিবিল রিপোর্ট ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক অভিজিৎ সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সংস্থার সাব্রুম শাখার একটি সূত্রের দাবি, এ ধরনের সমস্যার শিকার আরও কিছু গ্রাহক থাকতে পারেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

